Welcome to my blog, hope you enjoy reading
RSS

১১ অক্টোবর ২০০৯

আমি একদিন রোদ হয়ে যাব-ঘাস হয়ে যাব। তবে তার আগে-


আমি একদিন রোদ হয়ে যাব-ঘাস হয়ে যাব।
তবে তার আগে-
সবুজ মাঠ,ধানক্ষেত, রুপালী জোত্‌স্নার রুঁপচাদা রাতে
যদি ফিরে যাই একবার -শুধু একবার- দীর্ঘ বিরতির পরে।
বুভুক্ষু হৃদয় সেদিন সকল অবসাদ ঝেড়ে ফেলে
নয়ন জুড়ায়ে দেখে যাবে
ঘাসের সাথে শিশিরের প্রেম -কী গভীর প্রেম!-
কত ইতিহাস রচনা করে।
অথবা কোন অচেনা বিহগের সুরে আনমনা দুপুর
বিকেলের বুকে মুখ গুজে দিয়ে বলে উঠে,'প্রিয়া! এ কী !
এ কেমন সুর!
মন যে কেমন করে!'
গোধূলী বেলায় বকুল তলায় ঘাটের কাছে যখন থাকবেনা কেউ
নিশ্চুপ দেখে যাব আকাশলীনার রূপ।
তারপর ধীরে- খুব ধীরে আকাশ থেকে নেমে আসবে
যখন নিশীথিনী
দেখে যাবো রাতের তটে
জ্যোৎস্নার ঢেউ
বাঁশবাগানে জোনাকির কানাকানি,'দেখ বন্ধু,দেখ
কালোয়-আলোয় কত ভালবাসা!
কত সুখের রিনিঝিনি!'
হয়তো হঠা
ৎ তখন চোখ যাবে দূরে
যেখানে আকাশের রেলিং ধরে
নির্ঘুম ধ্রুবতারা জেগে আছে কারো অপেক্ষায়-
আরব্য রজনীর গল্প নয়
তখন, শুধু শব্দহীন দুটি কথা বিনিময়
তার সাথে ।হৃদয়ে হৃদয়ে।

যে কথা মাথাকুটে মরে,অন্তরে ,ব্যর্থতার ভারে,
যে কথা অবনমিত হেমন্তের বেলা হয়ে আছে,
মনজুড়ে।
যে কথা সুরে সুরে,ঘুরে ঘুরে,শুধু অশ্রু নিয়ে ফিরে।


তারপর সকালের নরম আলোয়
আমি,
নিমেষেই রোদ হয়ে যাব।
নরম তুলতুলে রোদ।
অথবা ঘাস হয়ে যাব ।
শিশির ভেজা ঘাস।

10/10/2009

১০ অক্টোবর ২০০৯

আমার প্রথম লেখা

বসন্তের একটি বিকেল এবং.........

বসন্তের বিকেল।কিছু প্রজাপতি এদিক ওদিক উড়ে বেড়াচ্ছে।আমার ছোট্ট বাগানটায় বসে আছি।গোলাপ,গন্ধরাজ,নয়নতারা,দুপুরমণি কত ফুলের মেলা।কিন্তু মনটা একদম ভাল নেই।শুধু অভি ,অনিক ওদের কথাই ঘুরে ফিরে মনে পড়ছে।জানিনা অভিটা কেন এরকম আচরণ করছে।ওকে দেখে মনে হয় ও কিছু একটা বলতে চায়।কিন্তু জিজ্ঞেস করতে ভয় হয়। যদি যা ভাবছি তাই বলে বসে।

অনিকের সাথে কলেজের প্রথম দিকের দিনগুলো কী সুন্দর কাটছিল! কখনো ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আড্ডা দেওয়া ,কখনো পার্কে গিয়ে ঘুরাঘুরি-এই সব করেই দিনগুলি কাটছিল বেশ।কখনো বুঝিনি অনিকের কাছে এসব কিছুই শুধু টাইম পাসের ব্যাপার ।ও যে আমাদের রিলেশনটাকে সিরিয়াসলি কখনোই নেয়নি এটা ভাবতেই পারিনি।অনিকের ব্যাপারে আমাকে সতর্ক করে দিতে এসেছিল তখন ওর সাথে কত খারাপ বিহেভ করেছি!অথচ অনিক চলে যাওয়ার পরে যখন খুব আপসেট হয়ে পড়েছিলাম তখন সেই অভিই কি না করেছে আমার জন্য।সবসময় সঙ্গ দিয়েছে ।আমি যাতে আবার স্‌বাভাবিক হয়ে ঠিক আগের মতই হাসি ঠাট্টায় মেতে উঠি সেজন্য অভির সেকি প্রাণপণ চেষ্টা।ওর মত একজন বন্ধু পাওয়াটা আসলেই ভাগ্যের ব্যাপার।বলতে গেলে আজ সেই অভির জন্যই আমি নিজেকে অনেকটা ফিরে পেয়েছি।

আচ্ছ অভি যদি কিছু বলে বসে কি বলব তখন?আমাকে ভাবার অবকাশ না দিয়েই অভি চলে এল।ও এসে নানান কথা বলার পর বলে,
-তোকে একটা কথা বলার ছিল।অনেকদিন ধরে বলব বলব করেও বলা হচ্ছেনা।কথাটা আজকেই বলে ফেলি।অভি হাসে।কিন্তু আমার ভেতরে তোলপাড় শুরু হয়।ইচ্ছে করে ওকে বলি ,না অভি কিছুই তোর বলার দরকার নেই ।আমি কিচ্ছু শুনতে চাচ্ছিনা।তুই কি বলবি আমি জানি।কিন্তু বলা হয়না।আমার মনে হচ্ছে কিছু বলতে গেলেই কান্নার ঢেউয়ে কন্ঠটা ঢেকে যাবে।চোখটা বন্ধ করে চুপচাপ বসে থাকি।অভি বলে,
-চোখ বন্ধ করে আছিস কেন?দেখ্‌ প্রকৃতিটা আজ কী সুন্দর সেজেছে! চারদিকে দারুণ লাগছে! যেদিকে তাকাই শুধু ফুল আর প্রজাপতি।তোর বাগানটা আসলেই সুন্দর হয়েছে।তারপর হঠাত'' একটু নরম সুরে বলে,
-আচ্ছা কবিতা,তোর কাছে যদি কিছু একটা চাই তুই কি আমাকে ফিরিয়ে দিবি?বুঝি ও কি চাই।তবু চোখ মেলে বলি,
-আমার জন্য তো অনেক করলি-অনেক।তোর ঋণ আমি শোধ করতে পারবনা।তবু বল কি চাস্‌ তুই?অভি কিছুক্ষণ চুপ থেকে তারপর বলে,
-তোর মনটা চাই। দিবি?তারপর খুব জোরে হেসে উঠে।বলে,
-আমি খুব সবার্থপর নারে?তোর জন্য কিছু করেছি বলে বিনিময়ে আমিও কিছু চাইছি।জানি ও এরকম কিছু বলবে।তবু শুনে মনটা কেমন করে উঠল।কান্নাটা রোধ করতে পারলাম না।অভি বলে,
-জানি অন্যকাউকে বিশবাস করতে তোর কষ্ট হবে।কিন্তু আমি ও আর পারছিলাম না।কবিতা, কিছু একটা বল্‌?
-অভি তুই এখন যা।
-এই তোর কিছু একটা বলা।আমি রেগে গিয়ে বলি,
-যা তো অভি।আমার কিচ্ছু ভাল লাগছে না এখন।আমার ধ্মক খেয়ে ও চুপচাপ উঠে ধীরে ধীরে পা ফেলে চলে যাচ্ছিল।আমি ওর দিকে তাকাই ।ভাবলাম , ও আমার জন্য অনেক করেছে।ওকে এভাবে ধমক দেওয়া মোটেই ভাল হয়নি।ওকে বুঝিয়ে বলতে পারতাম আমার মনের অবস্থাটা।ওর জন্য কষ্ট হয় খুব।ওকে ডাক দিই।ও পিছন ফিরে তাকায়।আমি হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বলি,
-ধর্‌ তো।অভি ফিরে এসে আমার হাতটা ধরে। আমি উঠে পড়ি।আর অভি আমার হাতটা ওর হাতে নিয়ে বলে ,
-থ্যাংক্স্‌ বসন্ত! থ্যাংকস্‌ গড্‌!

প্রজাপতিগুলো তখন ও উড়ে বেড়াচ্ছে।পাখাগুলো যেন আগের চেয়ে একটু চঞ্চল।আর বাগানের ফুলগুলো ও যেন হেসে হেসে উঠছে খুশিতে।কিন্তু কেন?বসন্ত এসেছে বলে?নাকি.........

#অনেক আগের লেখা।একটি দৈনিকের পাঠক ফোরামে "বসন্ত" নিয়ে পাঠকের কাছ থেকে লেখা চেয়েছিল তখন এটা লিখে পাঠিয়েছিলাম।প্রকাশও করেছিল। কেন জানিনাঃ)


স্ফীত প্রবাহ

অলস বিকেল। শ্রাবণী জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।শরতের নীল আকাশটা তখন দারুণ লাগছে।সূর্যটা ডুবে যাওয়ার আগে পৃথিবীকে লাল বেনারসিতে সাজিয়ে দিয়ে তার সৌন্দর্য অবলোকন করছে ।দূরে -আকাশ যেখানে মাটিতে মিশে গেছে -তার কোল ঘেষে কিছু পাখি নীড়ে ফিরে যেতে চঞ্চল পাখা মেলা দিয়েছে।
কিন্তু শ্রাবণী এই অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে পারছেনা।ভীষণ কষ্টে শ্রাবনীর হৃদয়টা ভেঙ্গে যাচ্ছে।।দু'চোখে লক্ষ্যহীন দৃষ্টি।চোখদুটো দেখে যে কেউ বলে দিতে পারবে ওর কষ্টের গভীরতা।কান্নাটা বুকের ভেতর তোলপাড় করছে বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য।ও প্রাণপণে সেটা চেপে রাখার চেষ্টা করছে।
শ্রাবণী ভাবে প্রকৃতিটার সাথে সাথে মানুষের মনটাও যদি একই রং ধারণ করত তাহলে খুব ভালো হত।এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে কখন যে সূর্যটা বিদায় নিয়েছে সে খেয়াল করেনি। যেদিন ও শিমুলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এসেছে সেদিন থেকে ওর ভেতরে তোলপাড় শুরু হয়েছে।কোন কিছুতে মন বসছেনা।নিজের রুমে একা একা বসে থাকছে । কারো সাথে তেমন কথা বলতেও ভাল লাগছেনা।কখনো শিমুলের সাথে আর দেখা হবেনা,কথা ও হবেনা।এটা তার কাছে কেমন সবপ্ন সবপ্ন লাগছে।অথচ শিমুলের জন্য ওর ভালবাসা একটুও কমেনি। এখনো আগের মতোই সে শিমুলকে ভালবাসে।ও চলে আসার সময় শিমুলের সেকি করুণ চেহারা।বার বার ওর করুণ মুখটাই শ্রাবনীর চোখে ভেসে উঠছে।ও শিমুলের কাছ থেকে বিদায় নিলেও শিমুল কিন্তু কাল দশটায় ওর জন্য ঠিকই অপেক্ষা করবে বলেছে।
শ্রাবনী ভেবে পায়না ওর কি করা উচিত।শ্রাবনী জানে শিমুলের কথার হেরফের হবেনা।শ্রাবনীর খুব অস্থির লাগছে।শিমুল না ফ্যামেলি ও ধর্ম কোনটাকে ও বেচে নেবে বুঝে উঠতে পারছেনা।ও কি ধর্ম ত্যাগ করবে?ধর্ম ত্যাগ করতে পারে কিন্তু বাবা,মা,নিশু এদের ছেড়ে যাবার কথা ভাবলেই শ্রাবনীর হৃদয়টা মোচড় দিয়ে উঠে।
শিমুল যদি মুসলিম না হত তাহলে হয়তো একদিন ওকে মেনে নিত।শ্রাবনী হিন্দু আর শিমুল মুসলিম।সবাভাবিকভাবেই শিমুলকে যদি ও বিয়ে করে তাহলে চিরদিনের জন্য সবকিছু পিছনে ফেলে যেতে হবে।ফিরে আসার কোন পথ নেই।অন্যদিকে শিমুলের ভালবাসা শ্রাবনীর জীবনের অমূল্য সঞ্চয়।
শিমুলের ভালবাসার কথা মনে পড়তেই শ্রাবনীর মনে একটা শীতল বাতাস বয়ে যায়।মনে একটা শান্ত ভাব চলে আসে।কল্পনায় ফিরে যায় স্মৃতির অলি-গলিতে।যে স্মৃতির পথ ভরে আছে শিমুলের ভালবাসায় সিক্ত শিশিরকণায়।শিমুলের ছন্নছাড়া পাগলামি ওকে হাতছানি দিয়ে ডাকে।ওর সহজ-সরল চাহনি ,অবুঝ মনটা যেন শ্রাবনীকে ডেকে বলে, 'তোমাকে ছাড়া আমার চলেনা।তুমি চলে এস নী।'
শ্রাবনী মুহূর্তে ডিসিশন নিয়ে ফেলে ও কি করবে।হা,ও শিমুলের কাছেই যাবে।
রাতে শ্রাবনী মাকে ভাল লাগছে না বলে কিছু না খেয়ে বিছানায় শরীরটাকে এলিয়ে দেয়।কি করবে না করবে ভেবে এই ক'টা দিন শ্রাবনীর অদ্ভুদভাবে কেটেছে।শেষ মুহূর্তে এসে একটা সিদ্ধান্তে আসতে পেরে নিজেকে ওর এখন অনেকটা হালকা লাগছে।তবু চোখে ঘুম আসেনা।
বিছানায় এপাশ-ওপাশ করে রাত কেটে যায়।
পরদিন সকাল সকাল বিছানা থেকে উঠে পড়ে।হঠাএকটা চাপা কষ্ট এসে মন ভার করে দেয়।কিছুক্ষণ বাসার এপাশ-ওপাশ ঘুরাঘুরি করে।টবে লাগানো ফুলের চারা গুলোকে দেখে নেয়।ওগুলোকে ছেড়ে , মা,বাবা,নিশুকে ছেড়ে,এই বাসার খাট ,টেবিল,আলমারি সবকিছু ছেড়ে ও চিরদিনের জন্য চলে যাচ্ছে শিমুলের কাছে।ওর প্রচন্ড কান্না আসে।সবকিছু ভাল করে দেখে নেয়। ভার্সিটি যাওয়ার সময় হলে ব্যাগটা নিয়ে ভার্সিটি যাওয়ার জন্য তৈরি হয়। তারপর মা,বাবা ও নিশুরদিকে ওদের অগোচরে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে।মনে মনে বলে,'মা ,বাবা,তোমাদের অতি আদরের মেয়ে তোমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে।আর কখনো দেখা হবে কিনা জানিনা।ক্ষমা করতে না পারলে অভিশাপ দিও।মাথা পেতে নেব।আর নিশু, দি্দি, তুই বাবা-মার কষ্ট ভুলিয়ে দিস্‌।পারলে তোর দিদিকে ক্ষমা করিস্‌।ভালো থেকো তোমরা।'ওর মনে হচ্ছে কোন কথা বলতে গেলেই কান্না চলে আসবে।তবু কোনরকমে মাকে বলে,'মা আসি'।
এরপর শ্রাবনী দ্রুত পা পেলে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে।পিছনের সবকিছুকে চিরদিনের মত বিদায় দেয়।শ্রাবনীর মা জানতে পারেননা যে মেয়ে বলে গেল 'আসি' সে আর কখনো ফিরে আসবেনা।জীবনের এক অপ্রতিরোধ্য স্রোত ওকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে দূরে-অনেক দূরে।




১৬ সেপ্টেম্বর ২০০৯

অন্য নদীর ঢেউ


ওখানে ছিলাম না আমি কখনো।
ওভাবে।
যখন তুমি ভাবছিলে সেই-ই আমি,
তখন বর্ষার নির্জন দুপুরে
আমি নকশী কাঁথার মাঠে বিভোর;
একটি একটি করে কষ্ট বুনি
দূরে-গাঁয়ের কোন এক ঘরে।
ছিলাম না কখনোই আমি,ওখানে ,ওভাবে।
আমি তখন শ্রাবণের বুকে রিনিঝিনি সুরের ছলে চাপা কষ্ট হয়ে আছি ।
আমি তখন মাটির সোঁদা সোঁদা গন্ধে নিজেকে ফিরে পেতে ব্যকুল।
আমি তখন সেই চিরপরিচিত বকুলতলে স্মৃতির অতলে ডুবে ছিলাম।
আমি তখন হারানো স্বপ্নে কী ভুল ছিল তন্ন তন্ন করে খুজছিলাম।
ওখানে ছিলাম না আমি কখনোই,ওভাবে।
আমি হয়ে ছিল অন্য কেঊ।
অন্য নদীর ঢেউ।
আমি হয়ে ছিল অন্য কেঊ।
অন্য নদীর ঢেউ।

ঘুম তুমি আসবে কি


কত শতাব্দীধরে ঘুমাই না আমি
এবার আমার গভীর ঘুম চাই
দীর্ঘ গভীর ঘুম ।
প্রকৃতির সবুজ জঠরে,
চিত্রার্পিত রাত্রির বুকের ওমে
একাকার হয়ে যেতে চাই
গভীর ঘুমে।
নিশিন্দার ঘ্রাণে ঘ্রাণে,
জোনাকির দীর্ঘ নিদ্রাবিহীন ভ্রমণে মিশে যেতে চাই।
প্রাচীন সভ্যতার আলোকিত অন্তরে অন্তরে
ঘু্মিয়ে যেতে চাই আমি
ঘুম তুমি আসবে কি এবার?
হায় আমার,অনাস্বাদিত দীর্ঘ গভীর প্রশান্তিময় ঘুম!
আসবে কি এবার তুমি?