অলস বিকেল। শ্রাবণী জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।শরতের নীল আকাশটা তখন দারুণ লাগছে।সূর্যটা ডুবে যাওয়ার আগে পৃথিবীকে লাল বেনারসিতে সাজিয়ে দিয়ে তার সৌন্দর্য অবলোকন করছে ।দূরে -আকাশ যেখানে মাটিতে মিশে গেছে -তার কোল ঘেষে কিছু পাখি নীড়ে ফিরে যেতে চঞ্চল পাখা মেলা দিয়েছে।
কিন্তু শ্রাবণী এই অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে পারছেনা।ভীষণ কষ্টে শ্রাবনীর হৃদয়টা ভেঙ্গে যাচ্ছে।।দু'চোখে লক্ষ্যহীন দৃষ্টি।চোখদুটো দেখে যে কেউ বলে দিতে পারবে ওর কষ্টের গভীরতা।কান্নাটা বুকের ভেতর তোলপাড় করছে বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য।ও প্রাণপণে সেটা চেপে রাখার চেষ্টা করছে।
শ্রাবণী ভাবে প্রকৃতিটার সাথে সাথে মানুষের মনটাও যদি একই রং ধারণ করত তাহলে খুব ভালো হত।এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে কখন যে সূর্যটা বিদায় নিয়েছে সে খেয়াল করেনি। যেদিন ও শিমুলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এসেছে সেদিন থেকে ওর ভেতরে তোলপাড় শুরু হয়েছে।কোন কিছুতে মন বসছেনা।নিজের রুমে একা একা বসে থাকছে । কারো সাথে তেমন কথা বলতেও ভাল লাগছেনা।কখনো শিমুলের সাথে আর দেখা হবেনা,কথা ও হবেনা।এটা তার কাছে কেমন সবপ্ন সবপ্ন লাগছে।অথচ শিমুলের জন্য ওর ভালবাসা একটুও কমেনি। এখনো আগের মতোই সে শিমুলকে ভালবাসে।ও চলে আসার সময় শিমুলের সেকি করুণ চেহারা।বার বার ওর করুণ মুখটাই শ্রাবনীর চোখে ভেসে উঠছে।ও শিমুলের কাছ থেকে বিদায় নিলেও শিমুল কিন্তু কাল দশটায় ওর জন্য ঠিকই অপেক্ষা করবে বলেছে।
শ্রাবনী ভেবে পায়না ওর কি করা উচিত।শ্রাবনী জানে শিমুলের কথার হেরফের হবেনা।শ্রাবনীর খুব অস্থির লাগছে।শিমুল না ফ্যামেলি ও ধর্ম কোনটাকে ও বেচে নেবে বুঝে উঠতে পারছেনা।ও কি ধর্ম ত্যাগ করবে?ধর্ম ত্যাগ করতে পারে কিন্তু বাবা,মা,নিশু এদের ছেড়ে যাবার কথা ভাবলেই শ্রাবনীর হৃদয়টা মোচড় দিয়ে উঠে।
শিমুল যদি মুসলিম না হত তাহলে হয়তো একদিন ওকে মেনে নিত।শ্রাবনী হিন্দু আর শিমুল মুসলিম।সবাভাবিকভাবেই শিমুলকে যদি ও বিয়ে করে তাহলে চিরদিনের জন্য সবকিছু পিছনে ফেলে যেতে হবে।ফিরে আসার কোন পথ নেই।অন্যদিকে শিমুলের ভালবাসা শ্রাবনীর জীবনের অমূল্য সঞ্চয়।
শিমুলের ভালবাসার কথা মনে পড়তেই শ্রাবনীর মনে একটা শীতল বাতাস বয়ে যায়।মনে একটা শান্ত ভাব চলে আসে।কল্পনায় ফিরে যায় স্মৃতির অলি-গলিতে।যে স্মৃতির পথ ভরে আছে শিমুলের ভালবাসায় সিক্ত শিশিরকণায়।শিমুলের ছন্নছাড়া পাগলামি ওকে হাতছানি দিয়ে ডাকে।ওর সহজ-সরল চাহনি ,অবুঝ মনটা যেন শ্রাবনীকে ডেকে বলে, 'তোমাকে ছাড়া আমার চলেনা।তুমি চলে এস নী।'
শ্রাবনী মুহূর্তে ডিসিশন নিয়ে ফেলে ও কি করবে।হা,ও শিমুলের কাছেই যাবে।
রাতে শ্রাবনী মাকে ভাল লাগছে না বলে কিছু না খেয়ে বিছানায় শরীরটাকে এলিয়ে দেয়।কি করবে না করবে ভেবে এই ক'টা দিন শ্রাবনীর অদ্ভুদভাবে কেটেছে।শেষ মুহূর্তে এসে একটা সিদ্ধান্তে আসতে পেরে নিজেকে ওর এখন অনেকটা হালকা লাগছে।তবু চোখে ঘুম আসেনা।
বিছানায় এপাশ-ওপাশ করে রাত কেটে যায়।
পরদিন সকাল সকাল বিছানা থেকে উঠে পড়ে।হঠাএকটা চাপা কষ্ট এসে মন ভার করে দেয়।কিছুক্ষণ বাসার এপাশ-ওপাশ ঘুরাঘুরি করে।টবে লাগানো ফুলের চারা গুলোকে দেখে নেয়।ওগুলোকে ছেড়ে , মা,বাবা,নিশুকে ছেড়ে,এই বাসার খাট ,টেবিল,আলমারি সবকিছু ছেড়ে ও চিরদিনের জন্য চলে যাচ্ছে শিমুলের কাছে।ওর প্রচন্ড কান্না আসে।সবকিছু ভাল করে দেখে নেয়। ভার্সিটি যাওয়ার সময় হলে ব্যাগটা নিয়ে ভার্সিটি যাওয়ার জন্য তৈরি হয়। তারপর মা,বাবা ও নিশুরদিকে ওদের অগোচরে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে।মনে মনে বলে,'মা ,বাবা,তোমাদের অতি আদরের মেয়ে তোমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে।আর কখনো দেখা হবে কিনা জানিনা।ক্ষমা করতে না পারলে অভিশাপ দিও।মাথা পেতে নেব।আর নিশু, দি্দি, তুই বাবা-মার কষ্ট ভুলিয়ে দিস্।পারলে তোর দিদিকে ক্ষমা করিস্।ভালো থেকো তোমরা।'ওর মনে হচ্ছে কোন কথা বলতে গেলেই কান্না চলে আসবে।তবু কোনরকমে মাকে বলে,'মা আসি'।
এরপর শ্রাবনী দ্রুত পা পেলে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে।পিছনের সবকিছুকে চিরদিনের মত বিদায় দেয়।শ্রাবনীর মা জানতে পারেননা যে মেয়ে বলে গেল 'আসি' সে আর কখনো ফিরে আসবেনা।জীবনের এক অপ্রতিরোধ্য স্রোত ওকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে দূরে-অনেক দূরে।

কিন্তু শ্রাবণী এই অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে পারছেনা।ভীষণ কষ্টে শ্রাবনীর হৃদয়টা ভেঙ্গে যাচ্ছে।।দু'চোখে লক্ষ্যহীন দৃষ্টি।চোখদুটো দেখে যে কেউ বলে দিতে পারবে ওর কষ্টের গভীরতা।কান্নাটা বুকের ভেতর তোলপাড় করছে বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য।ও প্রাণপণে সেটা চেপে রাখার চেষ্টা করছে।
শ্রাবণী ভাবে প্রকৃতিটার সাথে সাথে মানুষের মনটাও যদি একই রং ধারণ করত তাহলে খুব ভালো হত।এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে কখন যে সূর্যটা বিদায় নিয়েছে সে খেয়াল করেনি। যেদিন ও শিমুলের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এসেছে সেদিন থেকে ওর ভেতরে তোলপাড় শুরু হয়েছে।কোন কিছুতে মন বসছেনা।নিজের রুমে একা একা বসে থাকছে । কারো সাথে তেমন কথা বলতেও ভাল লাগছেনা।কখনো শিমুলের সাথে আর দেখা হবেনা,কথা ও হবেনা।এটা তার কাছে কেমন সবপ্ন সবপ্ন লাগছে।অথচ শিমুলের জন্য ওর ভালবাসা একটুও কমেনি। এখনো আগের মতোই সে শিমুলকে ভালবাসে।ও চলে আসার সময় শিমুলের সেকি করুণ চেহারা।বার বার ওর করুণ মুখটাই শ্রাবনীর চোখে ভেসে উঠছে।ও শিমুলের কাছ থেকে বিদায় নিলেও শিমুল কিন্তু কাল দশটায় ওর জন্য ঠিকই অপেক্ষা করবে বলেছে।
শ্রাবনী ভেবে পায়না ওর কি করা উচিত।শ্রাবনী জানে শিমুলের কথার হেরফের হবেনা।শ্রাবনীর খুব অস্থির লাগছে।শিমুল না ফ্যামেলি ও ধর্ম কোনটাকে ও বেচে নেবে বুঝে উঠতে পারছেনা।ও কি ধর্ম ত্যাগ করবে?ধর্ম ত্যাগ করতে পারে কিন্তু বাবা,মা,নিশু এদের ছেড়ে যাবার কথা ভাবলেই শ্রাবনীর হৃদয়টা মোচড় দিয়ে উঠে।
শিমুল যদি মুসলিম না হত তাহলে হয়তো একদিন ওকে মেনে নিত।শ্রাবনী হিন্দু আর শিমুল মুসলিম।সবাভাবিকভাবেই শিমুলকে যদি ও বিয়ে করে তাহলে চিরদিনের জন্য সবকিছু পিছনে ফেলে যেতে হবে।ফিরে আসার কোন পথ নেই।অন্যদিকে শিমুলের ভালবাসা শ্রাবনীর জীবনের অমূল্য সঞ্চয়।
শিমুলের ভালবাসার কথা মনে পড়তেই শ্রাবনীর মনে একটা শীতল বাতাস বয়ে যায়।মনে একটা শান্ত ভাব চলে আসে।কল্পনায় ফিরে যায় স্মৃতির অলি-গলিতে।যে স্মৃতির পথ ভরে আছে শিমুলের ভালবাসায় সিক্ত শিশিরকণায়।শিমুলের ছন্নছাড়া পাগলামি ওকে হাতছানি দিয়ে ডাকে।ওর সহজ-সরল চাহনি ,অবুঝ মনটা যেন শ্রাবনীকে ডেকে বলে, 'তোমাকে ছাড়া আমার চলেনা।তুমি চলে এস নী।'
শ্রাবনী মুহূর্তে ডিসিশন নিয়ে ফেলে ও কি করবে।হা,ও শিমুলের কাছেই যাবে।
রাতে শ্রাবনী মাকে ভাল লাগছে না বলে কিছু না খেয়ে বিছানায় শরীরটাকে এলিয়ে দেয়।কি করবে না করবে ভেবে এই ক'টা দিন শ্রাবনীর অদ্ভুদভাবে কেটেছে।শেষ মুহূর্তে এসে একটা সিদ্ধান্তে আসতে পেরে নিজেকে ওর এখন অনেকটা হালকা লাগছে।তবু চোখে ঘুম আসেনা।
বিছানায় এপাশ-ওপাশ করে রাত কেটে যায়।
পরদিন সকাল সকাল বিছানা থেকে উঠে পড়ে।হঠাএকটা চাপা কষ্ট এসে মন ভার করে দেয়।কিছুক্ষণ বাসার এপাশ-ওপাশ ঘুরাঘুরি করে।টবে লাগানো ফুলের চারা গুলোকে দেখে নেয়।ওগুলোকে ছেড়ে , মা,বাবা,নিশুকে ছেড়ে,এই বাসার খাট ,টেবিল,আলমারি সবকিছু ছেড়ে ও চিরদিনের জন্য চলে যাচ্ছে শিমুলের কাছে।ওর প্রচন্ড কান্না আসে।সবকিছু ভাল করে দেখে নেয়। ভার্সিটি যাওয়ার সময় হলে ব্যাগটা নিয়ে ভার্সিটি যাওয়ার জন্য তৈরি হয়। তারপর মা,বাবা ও নিশুরদিকে ওদের অগোচরে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে।মনে মনে বলে,'মা ,বাবা,তোমাদের অতি আদরের মেয়ে তোমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে।আর কখনো দেখা হবে কিনা জানিনা।ক্ষমা করতে না পারলে অভিশাপ দিও।মাথা পেতে নেব।আর নিশু, দি্দি, তুই বাবা-মার কষ্ট ভুলিয়ে দিস্।পারলে তোর দিদিকে ক্ষমা করিস্।ভালো থেকো তোমরা।'ওর মনে হচ্ছে কোন কথা বলতে গেলেই কান্না চলে আসবে।তবু কোনরকমে মাকে বলে,'মা আসি'।
এরপর শ্রাবনী দ্রুত পা পেলে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে।পিছনের সবকিছুকে চিরদিনের মত বিদায় দেয়।শ্রাবনীর মা জানতে পারেননা যে মেয়ে বলে গেল 'আসি' সে আর কখনো ফিরে আসবেনা।জীবনের এক অপ্রতিরোধ্য স্রোত ওকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে দূরে-অনেক দূরে।

